প্রকাশিত:
৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০৪
শিপন ভূঁইয়া: আগামী দশকে বৈশ্বিক ও দেশীয় অর্থনীতিতে বীমা খাতের অবস্থান একটি বড় ধরনের রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাবে। এতদিন ধরে যে খাতটি কেবল একটি "ঝুঁকি কভার করার দলিল" বা কিছু কাগজপত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল, প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক প্রয়োজনের তাগিদে তা রূপান্তরিত হয়ে দৈনন্দিন জীবনযাত্রার এক অপরিহার্য ডিজিটাল সেবা ও আর্থিক সুরক্ষাকবচ হিসেবে দাঁড়িয়ে যাবে।
আগামী দশকে প্রযুক্তির ছোঁয়ায় বীমা খাতের অবস্থান যে ৫টি মূল শক্তিতে প্রতিফলিত হবে তা হলো:
১. এম্বেডেড ইন্স্যুরেন্স
কোনো পণ্য বা সেবার ক্রয় প্রক্রিয়ার সঙ্গে সরাসরি বীমা সুরক্ষা যুক্ত করার পদ্ধতিকেই এম্বেডেড ইন্স্যুরেন্স বলে। আগামী ১০ বছরে মানুষ আলাদা করে এজেন্টের কাছে বা অফিসে গিয়ে বীমা কিনবে না। বীমা যুক্ত হয়ে যাবে দৈনন্দিন লেনদেনের সাথে। "যেখানে লেনদেন, সেখানেই সুরক্ষা"—বর্তমান এই নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। যেসব বিষয়ের সাথে এম্বেডেড ইন্স্যুরেন্স যুক্ত হতে পারে তা হলো:
এটি মূলত দুই বা তিনভাবে গ্রাহকদের অফার করা হয়:
২. এআই, বিগ ডেটা ও তাৎক্ষণিক দাবি নিষ্পত্তি:
বীমার সবচেয়ে বড় দুর্ভোগ হলো "দাবি নিষ্পত্তির দীর্ঘসূত্রতা"। আগামী দশকে এআই ও অটোমেশন এই প্রক্রিয়া পুরোপুরি বদলে দেবে, যেমন:
৩. স্বাস্থ্য ও জলবায়ু ঝুঁকির প্রধান আশ্রয়স্থল:
বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তন এবং উদীয়মান স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলার সবচেয়ে বড় মাধ্যম হবে বীমা। উল্লেখযোগ্য হলো:
৪. ব্যাংকিংয়ের মতো আস্থা ও জিডিপিতে অবদান:
বাংলাদেশে বর্তমানে জিডিপিতে বীমার অবদান ০.৩৪%-এর মতো কম হলেও, প্রবিধানের কঠোরতা, ডাবল সার্ভার বন্ধ এবং স্বচ্ছতা বৃদ্ধির কারণে আগামী ১০ বছরে এটি উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে, যেমন:
৫. একটি আকর্ষণীয় 'টেক-ফিন্যান্স' ক্যারিয়ার হাব:
আগামী দশকে এটি প্রথাগত এজেন্টের বাজার থেকে বেরিয়ে গিয়ে InsurTech, Data Analytics, Actuarial Science এবং Risk Architecture-এর তরুণ পেশাদারদের প্রথম সারির পছন্দ হয়ে উঠবে।
সংক্ষেপে বললে, আগামী দশকে বীমা কেবল একটি আর্থিক পণ্য থাকবে না! এটি হবে ডিজিটাল প্রযুক্তিনির্ভর এমন এক অদৃশ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা, যা মানুষের স্বাস্থ্য, সম্পত্তি, শিক্ষা ও অবসর জীবনকে প্রতিদিন ব্যাকগ্রাউন্ডে থেকে সুরক্ষিত রাখবে। বাংলাদেশের বীমা সেক্টরে দক্ষ, শিক্ষিত ও যোগ্য ব্যক্তিদের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। তরুণদের বীমায় ক্যারিয়ার গড়ার এখনই উপযুক্ত সময়।
লেখক: কলামিস্ট, ইন্স্যুরেন্স সেক্টর।
এমএসএস