প্রকাশিত:
২০ আগষ্ট ২০২৬, ১৭:৪২
এস এম জিয়াউল হক, এফএলএমআই: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন আর ভবিষ্যতের কোনো কল্পিত প্রযুক্তি নয়; এটি বর্তমান কর্মজগতের বাস্তবতা। বিশ্বের বিভিন্ন শিল্পের মতো বাংলাদেশের বীমা খাতেও প্রযুক্তির ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। ঝুঁকি মূল্যায়ন, পলিসি প্রক্রিয়াকরণ, দাবি ব্যবস্থাপনা, জালিয়াতি শনাক্তকরণ, গ্রাহকসেবা, তথ্য বিশ্লেষণ এবং প্রতিবেদন তৈরির মতো অনেক কাজ আগামী দিনে আরও বেশি প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠবে।
এই পরিবর্তনের ফলে স্বাভাবিকভাবেই একটি প্রশ্ন সামনে আসে -কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কি বীমা পেশাজীবীদের কাজের সুযোগ কমিয়ে দেবে?
প্রশ্নটির উত্তর সহজ নয়। কিছু প্রচলিত কাজ অবশ্যই স্বয়ংক্রিয় হয়ে যেতে পারে। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে মানুষের প্রয়োজন শেষ হয়ে যাবে। বরং বীমা পেশাজীবীর কাজের ধরন পরিবর্তিত হবে। যেসব কাজ বারবার একইভাবে করতে হয়, সেগুলোর একটি বড় অংশ প্রযুক্তি সম্পন্ন করতে পারবে। আর মানুষের ভূমিকা ক্রমশ বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ, জটিল ঝুঁকি বোঝা, সৃজনশীল সমাধান তৈরি, নৈতিক বিচার এবং গ্রাহকের সঙ্গে বিশ্বাসের সম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রে।
সুতরাং আগামী দিনের সফল বীমা পেশাজীবীকে শুধু বীমা সম্পর্কে জ্ঞানী হলেই চলবে না। তাকে একই সঙ্গে প্রযুক্তির পরিবর্তন বুঝতে হবে এবং এমন কিছু মানবিক গুণ নিজের মধ্যে গড়ে তুলতে হবে, যেগুলো কোনো যন্ত্র সহজে প্রতিস্থাপন করতে পারে না।
এই পাঁচটি গুণ হলো- কৌতূহল, সাহস, সৃজনশীলতা, সক্ষমতা এবং যোগাযোগ।
একজন বীমা পেশাজীবীর সবচেয়ে বড় সম্পদ তার বর্তমান জ্ঞান নয়; বরং নতুন কিছু শেখার আগ্রহ।
বীমা পেশার মৌলিক জ্ঞান অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। বীমা চুক্তি, ঝুঁকি মূল্যায়ন, পলিসির শর্ত, দাবি নিষ্পত্তি, পুনর্বীমা, হিসাবরক্ষণ এবং নিয়ন্ত্রক কাঠামো সম্পর্কে শক্ত ধারণা ছাড়া একজন পেশাজীবী দীর্ঘমেয়াদে সফল হতে পারবেন না। কিন্তু প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের কারণে শুধু পুরোনো জ্ঞান ধরে রাখাও যথেষ্ট নয়।
আজকের একজন বীমা পেশাজীবীকে জানতে হবে- তথ্য কীভাবে ঝুঁকি নির্ধারণে ব্যবহার করা যায়, স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা কীভাবে দাবি যাচাই করতে পারে, তথ্য বিশ্লেষণ কীভাবে জালিয়াতি শনাক্ত করতে সাহায্য করে এবং প্রযুক্তি কীভাবে গ্রাহকের অভিজ্ঞতা উন্নত করতে পারে।
একজন কৌতূহলী পেশাজীবী প্রতিদিন নিজেকে প্রশ্ন করবেন- “আমি আজ নতুন কী শিখলাম?”
তিনি শুধু নিয়ম অনুসরণ করবেন না; নিয়মের পেছনের কারণও জানতে চাইবেন। শুধু প্রচলিত পদ্ধতি অনুসরণ করবেন না; আরও ভালো পদ্ধতি আছে কি না, সেটিও খুঁজবেন।
বাংলাদেশের বীমা খাতে এই মানসিকতা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বাজার এখনো অনেক সম্ভাবনাময়। ক্ষুদ্র বীমা, কৃষি বীমা, জলবায়ু ঝুঁকি বীমা, স্বাস্থ্য বীমা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসার বীমা এবং প্রযুক্তিনির্ভর বীমা সেবায় নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
এই সুযোগগুলো কাজে লাগাতে হলে জানতে হবে, শিখতে হবে এবং প্রশ্ন করতে হবে।
কৌতূহল তাই শুধু একটি ব্যক্তিগত গুণ নয়; এটি ভবিষ্যতের পেশাগত টিকে থাকার অন্যতম প্রধান শর্ত।
পরিবর্তন কখনো সহজ নয়। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা কোনো পদ্ধতি পরিবর্তনের প্রস্তাব দিলে স্বাভাবিকভাবেই অনেকে অস্বস্তি বোধ করেন।
কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে সাহস মানে অন্ধভাবে নতুন প্রযুক্তি গ্রহণ করা নয়। সাহস মানে হলো- প্রয়োজন হলে পুরোনো পদ্ধতিকে প্রশ্ন করার মানসিকতা।
বাংলাদেশের বীমা খাতে এখনো অনেক কাজ কাগজপত্র, হাতে-কলমে তথ্য প্রক্রিয়াকরণ, একাধিক অনুমোদন এবং দীর্ঘ প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভরশীল। সব প্রচলিত পদ্ধতি যে খারাপ, তা নয়। কিন্তু যেসব কাজ আরও দ্রুত, স্বচ্ছ এবং নির্ভুলভাবে করা সম্ভব, সেগুলোকে নতুনভাবে করার সাহস থাকা দরকার।
একজন সাহসী বীমা পেশাজীবী প্রশ্ন করবেন- “আমরা এতদিন যেভাবে করেছি, তার চেয়ে আরও ভালোভাবে কি এটি করা সম্ভব?”
এই একটি প্রশ্ন থেকেই নতুন পদ্ধতির সূচনা হতে পারে।
তবে প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও বিচারবুদ্ধি প্রয়োজন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কোনো সিদ্ধান্তের সুপারিশ করলেই সেটিকে অন্ধভাবে গ্রহণ করা যাবে না। বিশেষ করে বীমার মতো একটি আস্থাভিত্তিক ও নিয়ন্ত্রিত খাতে মানুষের যাচাই, দায়বদ্ধতা এবং নৈতিক বিচার অপরিহার্য।
অর্থাৎ ভবিষ্যতের পেশাজীবী প্রযুক্তিকে ভয়ও করবেন না, আবার প্রযুক্তির ওপর অন্ধ নির্ভরশীলও হবেন না।
তিনি প্রযুক্তিকে ব্যবহার করবেন মানুষের সিদ্ধান্তকে আরও শক্তিশালী করার জন্য।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিপুল পরিমাণ তথ্য দ্রুত বিশ্লেষণ করতে পারে। কিন্তু নতুন একটি ধারণা সৃষ্টি করা, মানুষের অদৃশ্য সমস্যাকে চিহ্নিত করা এবং সম্পূর্ণ নতুন সমাধানের কথা ভাবা এখনো মানুষের অন্যতম বড় শক্তি।
বাংলাদেশের বীমা খাতে সৃজনশীলতার সুযোগ অত্যন্ত ব্যাপক।
দেশের কৃষক আবহাওয়া ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে নানা ধরনের ঝুঁকির মুখোমুখি হন। বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, অতিবৃষ্টি, খরা কিংবা ফসলের রোগ তার আয়কে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। একজন সৃজনশীল বীমা পেশাজীবী ভাবতে পারেন- কীভাবে এসব ঝুঁকির জন্য সহজ ও সাশ্রয়ী বীমা তৈরি করা যায়।
একইভাবে নিম্নআয়ের মানুষের জন্য স্বল্প প্রিমিয়ামের ক্ষুদ্র বীমা, ছোট ব্যবসার জন্য সহজ বীমা প্যাকেজ, তরুণদের জন্য নমনীয় জীবন ও স্বাস্থ্য বীমা কিংবা দুর্যোগের পর দ্রুত অর্থপ্রদানের ব্যবস্থা- সবই হতে পারে নতুন বীমা উদ্ভাবনের ক্ষেত্র।
একজন সৃজনশীল পেশাজীবী শুধু এই প্রশ্ন করবেন না- “কীভাবে আরও বেশি পলিসি বিক্রি করা যায়?”
তিনি বরং প্রশ্ন করবেন- “মানুষের কোন ঝুঁকিটি এখনো যথাযথভাবে বীমার আওতায় আসেনি?”
এই প্রশ্নের মধ্যেই ভবিষ্যতের নতুন বীমা ব্যবসার সম্ভাবনা লুকিয়ে রয়েছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে একজন বীমা পেশাজীবীর সক্ষমতার অর্থ শুধু বহু বছরের অভিজ্ঞতা নয়। তাকে একই সঙ্গে বীমা, প্রযুক্তি, তথ্য এবং ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত সম্পর্কে ধারণা রাখতে হবে।
একজন আধুনিক বীমা পেশাজীবীর মূল দক্ষতার ভিত্তি অবশ্যই থাকবে বীমা জ্ঞান। ঝুঁকি মূল্যায়ন, দাবি ব্যবস্থাপনা, পুনর্বীমা, পণ্য উন্নয়ন, মূল্য নির্ধারণ, নিয়মনীতি এবং গ্রাহকসেবা সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অপরিহার্য।
এর সঙ্গে যুক্ত হবে নতুন কিছু দক্ষতা- তথ্য বিশ্লেষণ, স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়া বোঝা, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ।
এর অর্থ এই নয় যে প্রত্যেক বীমা পেশাজীবীকে কম্পিউটার প্রকৌশলী বা তথ্যবিজ্ঞানী হতে হবে। বরং তাকে বুঝতে হবে- কোন প্রযুক্তি কোন বীমা সমস্যার সমাধান করতে পারে এবং প্রযুক্তি থেকে পাওয়া তথ্য কীভাবে বাস্তব ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তে ব্যবহার করা যায়।
ভবিষ্যতে একজন সফল বীমা পেশাজীবী তাই একদিকে যেমন বীমার মৌলিক বিষয়গুলো ভালোভাবে জানবেন, অন্যদিকে প্রযুক্তির পরিবর্তন সম্পর্কেও সচেতন থাকবেন।এই সমন্বিত দক্ষতাই তাকে অন্যদের থেকে এগিয়ে রাখবে।
বীমা মূলত আস্থার ব্যবসা। একজন মানুষ যখন জীবন বীমা করেন, তখন তিনি শুধু একটি পলিসি কেনেন না; তিনি তার পরিবারের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার জন্য একটি প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করেন। একজন ব্যবসায়ী সম্পদের বীমা করলে তিনি তার ব্যবসার অনিশ্চয়তার একটি অংশ বীমা প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তর করেন। আর একজন গ্রাহক যখন দাবি করেন, তখন অনেক সময় তিনি তার জীবনের একটি কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন।
এই সময়ে শুধু প্রযুক্তিগত উত্তর যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন মানবিক বোঝাপড়া।
একজন ভালো বীমা পেশাজীবী জটিল পলিসির শর্ত সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করতে পারেন। তিনি গ্রাহকের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন। তিনি অযথা প্রতিশ্রুতি দেন না। তিনি দাবি নিষ্পত্তির সময় গ্রাহকের উদ্বেগকে গুরুত্ব দেন।
বাংলাদেশের বীমা খাতে এই দক্ষতার গুরুত্ব আরও বেশি। সাধারণ মানুষের মধ্যে বীমা সম্পর্কে সচেতনতা ও আস্থা বাড়ানো এখনো একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
একজন দক্ষ পেশাজীবী তাই শুধু পলিসি বিক্রি করবেন না; তিনি গ্রাহককে বীমা বুঝতে সাহায্য করবেন।
তিনি বুঝবেন, একজন গ্রাহকের কাছে ‘বীমা’ একটি জটিল আর্থিক পণ্য হলেও তার কাছে এটি আসলে নিরাপত্তার একটি প্রতিশ্রুতি।
সেই প্রতিশ্রুতিকে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলার প্রধান মাধ্যম হলো যোগাযোগ।
এই প্রশ্নটি এখন প্রায় সর্বত্র আলোচিত হচ্ছে। কিন্তু বীমা খাতের ক্ষেত্রে আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো- কাজের প্রকৃতি কীভাবে পরিবর্তিত হবে?
যেসব কাজ নিয়মিত, পুনরাবৃত্তিমূলক এবং নির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণ করে করা যায়, সেগুলোর অনেকটাই ভবিষ্যতে স্বয়ংক্রিয় হতে পারে।
কিন্তু জটিল ঝুঁকি, ব্যতিক্রমী দাবি, নৈতিক সিদ্ধান্ত, গ্রাহকের আস্থা, ব্যবসায়িক কৌশল এবং নতুন পণ্য উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে মানুষের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
ধরা যাক, একজন দাবি কর্মকর্তা প্রতিদিন শত শত দাবি যাচাই করেন। ভবিষ্যতে প্রযুক্তি হয়তো প্রাথমিকভাবে তথ্য বিশ্লেষণ করে অস্বাভাবিক দাবিগুলো আলাদা করে দিতে পারবে। তখন ওই কর্মকর্তার কাজ হবে প্রতিটি দাবি হাতে ধরে পরীক্ষা করা নয়; বরং যেসব ক্ষেত্রে বিশেষ মানবিক বিচার বা তদন্ত প্রয়োজন, সেগুলো শনাক্ত করা।
একইভাবে একজন ঝুঁকি মূল্যায়নকারী হয়তো প্রতিটি তথ্য নিজে হাতে বিশ্লেষণ করবেন না। প্রযুক্তি তাকে সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে ধারণা দেবে। কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে তার অভিজ্ঞতা ও বিচারবুদ্ধি গুরুত্বপূর্ণ থাকবে।
অর্থাৎ প্রযুক্তি কাজের গতি বাড়াবে, কিন্তু মানুষের বিচারবুদ্ধির গুরুত্ব শেষ করবে না।
প্রথমত, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে ভয় না পেয়ে এটি সম্পর্কে শেখা শুরু করতে হবে।
দ্বিতীয়ত, নিজের বীমা জ্ঞান আরও শক্তিশালী করতে হবে। কারণ প্রযুক্তি যতই উন্নত হোক, বীমার মূলনীতি, ঝুঁকি, চুক্তি, দাবি, পুনর্বীমা ও নিয়ন্ত্রক দায়বদ্ধতার মৌলিক জ্ঞান অপরিহার্য থাকবে।
তৃতীয়ত, প্রযুক্তিকে নিজের প্রতিদ্বন্দ্বী না ভেবে সহায়ক হিসেবে ব্যবহার করতে শিখতে হবে।
চতুর্থত, নিজের মানবিক দক্ষতাগুলো আরও উন্নত করতে হবে- বিশেষ করে বিশ্লেষণী চিন্তা, নেতৃত্ব, সৃজনশীলতা, আলোচনা, সহমর্মিতা এবং যোগাযোগ।
পঞ্চমত, শুধু নিজের বর্তমান পদ বা দায়িত্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে পুরো বীমা ব্যবসাকে বোঝার চেষ্টা করতে হবে।
একজন দাবি কর্মকর্তা যদি ঝুঁকি মূল্যায়ন সম্পর্কে জানেন, একজন বিক্রয় কর্মকর্তা যদি দাবি ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে ধারণা রাখেন এবং একজন ঝুঁকি মূল্যায়নকারী যদি গ্রাহকের বাস্তব চাহিদা বোঝেন, তাহলে পুরো প্রতিষ্ঠানের জন্য তার মূল্য বহুগুণ বেড়ে যায়।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বীমা শিল্পের কাজের ধরন পরিবর্তন করবে- এটি প্রায় নিশ্চিত। কিন্তু ভবিষ্যৎ যে মানুষের জন্য থাকবে না, এমন ধারণা সঠিক নয়। বরং ভবিষ্যৎ হবে সেইসব মানুষের জন্য, যারা নিজেদের পরিবর্তনের সঙ্গে পরিবর্তিত করতে পারবেন।
এই পাঁচটি গুণ একজন বীমা পেশাজীবীর জন্য শুধু ব্যক্তিগত উন্নয়নের বিষয় নয়; এগুলো ভবিষ্যতের পেশাগত সক্ষমতার ভিত্তি।
বাংলাদেশের বীমা খাত এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের দ্বারপ্রান্তে। প্রযুক্তি এই পরিবর্তনের গতি বাড়াবে। কিন্তু সেই পরিবর্তনের দিক নির্ধারণ করবে মানুষ।
তাই আগামী দিনের বীমা পেশাজীবীর লক্ষ্য হওয়া উচিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে প্রতিযোগিতা করা নয়। লক্ষ্য হওয়া উচিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার শক্তিকে নিজের মানবিক দক্ষতার সঙ্গে যুক্ত করা।
কারণ একটি যন্ত্র দ্রুত তথ্য বিশ্লেষণ করতে পারে, কিন্তু মানুষের উদ্বেগ বুঝতে পারে না একইভাবে। একটি ব্যবস্থা ঝুঁকির হিসাব করতে পারে, কিন্তু একজন গ্রাহকের আস্থা অর্জন করতে পারে না। একটি যন্ত্র সম্ভাব্য সিদ্ধান্ত দিতে পারে, কিন্তু জটিল পরিস্থিতিতে নৈতিক ও মানবিক বিচার করার দায়িত্ব শেষ পর্যন্ত মানুষেরই।
সুতরাং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে একজন বীমা পেশাজীবীর সবচেয়ে বড় শক্তি তার প্রযুক্তি জ্ঞান একা নয়।
তার আসল শক্তি হবে- কৌতূহল দিয়ে শেখা, সাহস দিয়ে পরিবর্তন গ্রহণ, সৃজনশীলতা দিয়ে নতুন পথ তৈরি, সক্ষমতা দিয়ে প্রযুক্তিকে কাজে লাগানো এবং যোগাযোগের মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জন। এটাই হতে পারে বাংলাদেশের বীমা পেশাজীবীদের ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারে টিকে থাকার পাঁচ মানবিক শক্তির মূলমন্ত্র।
এমএসএস